শ্রীবাণী গুপ্ত, এম, এ, বি, টি,

দ্বিতীয় সংস্করণ ১লা আশ্বিন ১৩৫৫

প্রকাশক শ্বদ্রাকর £ গ্রীললিত মোহন গুণ, শ্বজ্বাধিকারী ভারত তোটোটাহপ্প ষ্ট,ভিও,

শ২২/১৯, কল্েোজ্জ উ্রাট, কলিকাতা?

রি এটির ২১১

ওশ /াচূ ছা 27 41684) [- ৮৮7 ডি বি 04১

রি ৫077৮ ১, ৬৮৬১

নিট ০০৮৭ 2

বাসম্ভী বাহপ্তিং ওয়ার্কস্‌ ৫০, পটউলভাঙ্গ। ক্রীট, কল্িক তা?

মুল্য ছুই টাকা!

ভূমিকা

বাংলা দেশে মেয়েরা গালগল্প এবং উপকথা অনেকে লিখেছেন এবং অনেক লিখেছেন কিন্তু সত্যিকারের ইতিহাসের সাধনায় তাদের মধ্যে কচিৎ কদাচিৎ কেউ অগ্রসর হয়েছেন। তাই কল্যাণীয় শ্রীমতী বাণী গুপ্তের “ছেলেদের জাহাঙ্গীর, বইখানি দেখে এক সঙ্গে আনন্দ বিস্ময় অনুভব করলাম বাংল! দেশের ছেলেমেয়েদের ইতিহাসের গল্প শোনাবার ব্রত আমার সাহিত্য সাধনার গোড়ার দিকে আমি গ্রহণ করেছিলাম ভিন্ন আকর্ষণে আমি আজ অগ্য পথের পথিক হ'লেও মনে মনে ইতিহাসের প্রতি অনুরাগ আমার সমানই আছে। তাই ছেলেমেয়েদের ইতিহাস শেখানোর কাজে শ্রীমতী বাণীর মত একজন শিক্ষিত! সুলেখিকা অগ্রসর হয়েছেন দেখে আমি তাকে প্রাণ খুলে আশীর্বাদ করছি। তার সাধনা সুদুর প্রসারী হোক এবং দেশের ছেলৈমেয়েরা দেশের সত্য কাহিনী শোনবার

অবকাশ পেয়ে ধন্য হোক। ীব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

নিবেদন ভারতবর্ষের ইতিহাসে মোগল শাসন এক বিরাট অধ্যায়। তার সংস্কৃতি সভ্যতা, তার রাজ্য শাসনপদ্ধতি দেশকে উন্নতির পথে পরিচালনা করেছে বাংল! দেশের ছোট ছোট ছেলে- মেয়েদের সেই গৌরবময় অতীত ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত ক'রে দেবার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই “ছেলেদের জাহাঙ্গীর+” প্রকাশ করেছিলাম, আমার সে আকাঙ্া পুর্ণ হয়েছে এই পর্য্যায়ের অন্ত কয়েকখানি বই প্রকাশ করেছি এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকখানি প্রকাশ করবার ইচ্ছা আছে স্থপ্রসিদ্ধ প্রবীণ সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় যে পরিশ্রম স্বীকার ক'রে আমার এই প্রথম বইখানির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন, তার জন্য তাকে আমার সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বইখানি লেখার জন্য আমি 1৬৫7)91050£ 08218021, 5710) এর 7075 06910 [15007 ০£ 10919, স্তার টমাস রোর 1০07281) অধ্যাপক বেণীপ্রসাদের ]91787817- প্রভৃতি বইয়ের সাহায্য গ্রহণ করেছি। ছোটদের কাছে চিত্তাকর্ষক করার জন্য 'বইখানিতে কয়েকখানি চিত্রের প্রতিলিপি সন্নিবেশ করেছিলাম এই দ্বিতীয় সংস্করণে নূরজাহানের এক খানি বন্ু- বর্ণের ছুশ্পরাপ্য প্রতিলিপি দৈওয়া হল। মূল চিত্রগুলি সবই প্রাচীন মোগল চিত্রকরদের দ্বারা অঙ্কিত। বইখানি যাদের জন্য লেখা, তাদের ভাল লেগেছে জেনে আমার পরিশ্রম সার্থক মনে করছি। __-লেখিক৷

উৎসর্গ

স্নেহের স্প্রিয়!

ইতিহাসের কথা শ্বনতে তুমি ভালবাস, তাই তোমার আর তোমারই মত ইতিহাসপ্রিয় বাংলার ছেলেমেয়েদের হাতে এই বইখানি তুলে দিলাম।

নয়াদিল্ী শুভাকাজিণী ১ল| আশ্বিন, ১৩৫৫ মাসীমা

ভেতেতে উহা

প্রথম পরিচ্ছেদ

১৫৬৯ খুঃ ৩০শে আগষ্ট বুধবার ঘিপ্রহরে সম্রাট আকবরের জে্টপুতর সেলিম জন্মগ্র€ণ করেন।

এই সময়ে বাবর কর্তৃক প্রতিচিত মুঘল সাম্রাজ্য এক বৃহত্বম শক্তিতে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ ছাড়া সমগ্র সিন্ধু- গঙ্গা উপত্যকা আকবর আপন হস্তে শাসন করতেন। স্বর কাবুলের পরেও হ্ঠার আধিপত্য বিস্তৃত ছিল। কেবল মাত্র রাজপুতনা বীরত্বে মহত্বে সমগ্র ভারতবর্ষে এক অপূর্ব আদর্শের সৃষ্টি করেছিল। প্রকৃতির তৈরী ছূর্ভে্ঠতায় ছুরধিগম্য রাজপুতনা বিপুল সম্মানের অধিকারী তখন। কিন্তু মুল শক্তির দুর্ব্বারতা তাকেও আপন আয়র্তে এনেছিল ১৫৬৮ ষ্টাব্ের প্রথম দিকে। স্বাভাবিক দুরদর্ণিতার সাহায্যে আকবর উপলব্ধি করেছিলেন ভারতবর্ষের বাইরে থেকে এসে যে মুঘল

ছেলেদের জাহাঙ্গীর

জাতি ভারতবর্ষের সিংহাসনে আপন শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সে কখনই সুদৃঢ় ভিত্তিতে স্থাপিত হ'তে পারবে না যদি ভারতীয় শ্রেষ্ঠ জাতি গুলির সঙ্গে তার অন্তরের মিল না ঘটে। এটা.তিনি স্থির জেনেছিলেন যে, বাহুবল জনবলের দ্বারা সাময়িক ভাবে পরাজিত হ'লেও রাজপুত জাতি নিঃশবে প্রতীক্ষা করছে সেদিনের যেদিন আবার সে আপন শক্তিতে জাগ্রত হয়ে উঠতে পারবে তাই আকবর চেষ্টা করলেন রাজপুত জাতির বন্ধুত্ব লাভের জন্য এই বন্ধুত্ব স্থাপনের প্রথম পর্যায় হিসাবে তিনি অন্বর রাজকন্যাকে বিবাহ করলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে সেই প্রথম রাজপুত মুঘলের মধ্যে বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপিত হয়। ইতিহাসে এই রাজনৈতিক বিবাহ যে অত্যন্ত ফলগ্রত্থ হয়েছিল সেকথা ন,তন করে বলার প্রয়োজন নেই।

এইভাবে প্রায় সমগ্র ভারতবর্ষের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে আকবর সুশাসন শৃঙ্খলার দ্বারা রাজ্যের স্ুবন্দোবস্ত করেন। কিন্ত রাজনৈতিক ব্যাপারে সৌভাগ্যবান হ'লেও আকবর পারি- বারিক জীবনে সুখী ছিলেন না। তার আনক সন্তানই অকালে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল। সেন আকবরের অশাস্তির সীমা ছিল না। পাহাড় সমুত্র বেষ্টিত বিপুল বিশাল এখর্য্যশালিনী এই রাজ্যের সুযোগ্য উত্তরাধিকারীর জন্য তিনি একাস্তিক ভাবে ঈশ্বর দরবেশের কাছে প্রার্থনা জানাতেন

এই সময়ে সেখ সেলিম নামে একজন জ্ঞানী সাধু দরবেশ আগ্রার নিকটে ছোট গ্রায় সিক্রীর পাহাড়ের কাছে বাস

ছেলেদের জাহাঙ্গীর

কষ্মতেন। পুত্রলাভের আশায় আকবর ভক্তি আন্রচিত্তে তার কাছে উপস্থিত হুলেন। দরবেশ সআাটের একাস্তিক শ্রদ্ধায় প্রীত হয়ে তাকে পুত্রলাভের আশীর্ধাদ করেন। আকবর প্রতিশ্র্তি দেন যে দরবেশকে তার প্রথম পুত্র তিনি উৎসর্গ করবেন। অবশেষে সত্য সত্যই আকবরের বেগম রাজপুত রাজকন্যা মরিয়ম উজ যামিনীর সন্তান সম্ভাবনা হল। সন্ভান জন্মের পুর্বে বেগমকে সম্রাট সিক্রীর দরবেশের গৃহে প্রেরণ করেন। সেইখানেই জন্মগ্রহণ করেন মুঘল সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী সম্রাট আকবরের প্রথম পুত্র। দরবেশ নবজাত শিশুর নামকরণ করলেন তারই নামে তাঁর নাম হল মুহম্মদ স্থলতান সেলিম আকবর দরবেশের আশীর্ধাদে পাওয়া পুত্রকে আদর করে ডাকতেন সেখু বাবা সেলিমকে অন্ত কোনও নামে ডেকে তিনি তৃপ্তি পেতেন না সেলিমের জন্মের সঙ্গেই আগ্রায় আকবরের কাছে শুভ সংবাদ প্রেরণ করা হল। সমস্ত রাজধানীতে সাড়া পড়ে গেল গভীর আনন্দের উত্সবের | সাতদিন ধরে আন্চন্দ উত্সব, দানত্রত, ঈশ্বরের উপাসনা প্রভৃতি পুণ্যকাজে আকবর সময় অতিবাহিত করলেন। আবুল ফজল এই উৎসবকে লক্ষ্য করে বলেছেন “আনন্দে পরিপূর্ণ হল সমস্ত রাজ্য” খাজ! ছুসেন এই উপলক্ষ্যে একটি সুন্দর কবিতা লিখে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন--”

“কালের সমুত্র হ'তে ভেসে এসেছে তীরভূমিতে একটি শুভ্র নিটোল মুক্তা !

ছেলেদের জাহাঙ্গীর

অভাবই বিশেষ ভাবে অনুভূত হচ্ছিল। অবশেষে ১৫৮২ 'খুঃ কৃত্রিম হ্রদের বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সকলের প্রাণ বিপন্ন হয়ে উঠল এবং সকলে সিক্রী পরিত্যাগ কর! স্থির করলেন। ১৫৮৫ খুঃ রাজধানী আবার আগ্্রীয় প্রত্যাবর্তন করে।

শাহজাদা সেলিমের শৈশবের ক্রাঁড়াডূমি ছিল এই সিক্রী। সিক্রীর পুষ্পোন্ভানে, হুৃদের তীরে, উন্মুক্ত আকাশের নীচে তার জীবনের প্রথম কয়েকটি বসর অতিবাহিত হয়। যে সুন্দর পরিবেশের মধ্যে তার শিশুমন গড়ে উঠেছিল, তাই তার পরবর্তী জীবনে তাকে এত বেশী সৌন্দর্য্য আড়থরপ্রির সআ্াটে পরিণত করেছিল সন্তানদের প্রতি আকবর অত্যন্ত স্েহশীল ছিলেন কিন্তু সেইসঙ্গে তা'দের শিক্ষার দিকেও তার তীক্ষদৃ্ট ছিল। মুসলমান রীতি অনুসারে চার বছর চার মাস চার দিন অতিবাহিত হলে শাহজাদ। সেলিমের শিক্ষা সুরু হল। ১৫৭৩ খুঃ এর ১৮ই নবেম্বর মৌলানা মীর কলন হরবী শাহজাদার শিক্ষকপদে নিযুক্ত হন।

তৈমুরের বংশে শিক্ষানুরাগ আদর্শস্থানঈম তৈমুর লঙ. পৃথিবীতে নৃশংস অত্যাচারীরূপেই পরিচিত, কিন্ত একথা অন্ধীকার করা যায় না যে ভার চরিত্রের একটি উজ্জল দিকও ছিল। সে দিক হল তার বিষ্যান্ুরাগের দিক। এঁতিহাসিক গিবন সাহেব বলেছেন পার্শী তুকীঁ ভাষায় তৈমুর অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কথা বলতে পারভেন। ইতিহাস বিজ্ঞানের সম্বন্ধে পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। . সিরাজ নগর

ছেলেদের জাহাঙ্গীর [৭

ধ্বংসের সময়ে কবি হাফিজের জীবন সম্পত্তি তারই আদেশে রক্ষা পেয়েছিল। সমরখন্দ বোখারাকে তৈমুর বিখ্যাত সংস্কৃতি শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন

তৈমুরের পরে তার বংশধরেরা বংশের এই শিক্ষা গৌন্পবকে . অক্ষুপ্ন রেখেছিলেন তৈমুরবংশের ইতিহাস তাই কবি, দার্শনিক এঁতিহাসিকে সমুদ্ধ। বাবর ভারতবর্ষে এই তৈমুর বংশের ধারাকে নিবে এসেছিলেন বাবরের শিক্ষা! সংস্কৃতির পরিচয় আমর! পাই তীর লেখা আত্মজীবনীতে ছাড়াও সমসাময়িক এঁতিহাসিকেরা তার শিক্ষিত মনের পরিচয় অন্য বহু রকমে পেয়েছিলেন। তুকী ভাষায় অনেক সুন্দর সহজ সরল কবিতা তিনি রচনা করেছিলেন আইন সম্বন্ধে তার লেখা পুস্তক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল সঙ্গীত বাচ্যন্ত্রে তার বিশেষ নৈপুণ্য ছিল। বাবর এক বিশেষ ধরণের হস্তলিপিতে কোরাণ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। সমস্ত জীবন ধরে তিনি যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত ছিলেন বটে কিন্তু পুত্র হুমাযুনের শিক্ষার প্রতি তার বিশেষ লক্ষ ছিল। পদার্থবিষ্যা,। অঙ্ক, জ্যোতিষ ভৌগলিক বিদ্যায় হুমায়ূন যথেষ্ট পারদশিতা লাভ করেন। সাহিত্যে তার প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল। কবিতা রচনায় ভিনি, বিশেষ নৈপুণ্য অর্জন করেন। আকবরের রাজসভার এঁতিহাসিক হুমাধুনকে আলেকজ্বাগ্ডারের উৎসাহ এবং আরিষ্টোটলের জ্ঞানের সম্মিলিত মূত্ি বলে বর্ণনা করেছেন। তার পুস্তকাগার সর্বদা তীর সঙ্গে থাকত। যুদ্ধক্ষেতেও তার

৮... ছেলেদের জাহাঙ্গীর

ধাতিক্রম হ'তনা। এমন কি ধে দিন সর্ধবন্ব হারিয়ে তিনি পারস্তের পথে পলায়ন করেছিলেন, সৈদিনও তার সঙ্গে তার অতিপ্রিয় পুস্তক সম্ভার ছিল। সমস্ত জীবন তূর্য্যোগের মধ্যে অতিবাহিত হ'লেও পুত্র আকবরের শিক্ষার জন্য তীর; আগ্রহের দীম! ছিল না। পুত্রের প্রতি তার উপদেশ ছিল। |

“অলস হয়ে বসে থেকোনা।

জীবন খেলার নয়;

জীবন হ'ল সৌন্দর্য্য কর্মের

সাধনার জন্য 1”

আফববের বাল্য কৈশোর যৌবনের মধ্যভাগ পর্য্যস্ত অতিবাহিত হয় চরম বিপদ, ছুঃখ দুর্দশার মধ্যে সেজন্য পিতা গিতামছের মত বিষ্ভাচ্চার অবকাশ তিনি পান নি। আকবর নিরক্ষর ছিলেন। কিন্তু একথা আমাদের মনে রাখতে হবে যে তিনি নিরক্ষর ছিলেন বটে, অশিক্ষিত ছিলেন না। আকবর তীর সমসাময়িক পরবস্তী যুগে তার তীব্র জ্ঞানস্পৃহার জন্য খ্যাতিলাভ করেছেন৷ শ্রবগশক্তির পাহাঁষ্যে তিনি জ্ঞার্ন অর্জন করতেন। সত্যকে জানবার জন্য তীর কামন। ছিল অদম্য। আন্তর্জাতিক ধর্ম সম্বন্ধে তিনিই ভারতবর্ষে প্রথম অনুশীলন করেছিলেন। ফতেপুর পিক্রীতে ছিল তার প্রশস্ত বিতর্ক সভাগৃহ নাম ছিল তার ইবাদত খানা সেখানে এসে মিলিত হতেন সকল ধর্মের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতের! ন্থুদীর্ঘ রাত্রি জাগ্রত থেকে আকবর একাগ্রচিত্তে নানাবিষয়ে আলোচনা

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ৯১

শুনতেন, তর্কে যোগ দিতেন। আকবরের পূষ্ঠপৌষকতায় বনু গ্রন্থ পারস্তভাষায় অনুদিত হয়েছিল, তাদের মধ্যে রাজতরঙিপী, পঞ্চতন্ত্রম, অবথবর্ববেদ, রামায়ণ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য

শাহজাদা সেলিম এই আকবরের প্রির জ্যেষ্টপুত্র। গুতরাং তার শিক্ষা সম্বন্ধে আকবর যে অত্যন্ত বেশী উদ্ভোগী হবেন তাতে বিস্ময়ের কিছুই ছিল না। পুত্রের শিক্ষক নির্ববাচনে আকবর তাঁর স্বাভাবিক দুরদশিতার পরিচয় দিয়েছিলেন মৌলানা মীর কলন হরবী একজন প্রকৃত পণ্ডিত ছিলেন। ধর্্মতত্ববিদ্হিসাবে তার যশ সমস্ত ভারতবর্ষে পরিব্যাপ্ত ছিল। মৌলানা সাহেবের চরিত্র সুদ এবং উদার ছিল। শোনা যায় তিনি তার চারিত্রিক বল তার মারের ব্কিটে পেয়েছিলেন। মৌলানা সাহেব যখন মারা যান তখনও তাঁর মা বেঁচে ছিলেন তার বয়স তখন একশত বৎসর পুত্রের মৃত্যুসংবাদ যখন জননীর কাছে পৌছিল তখন তিনি কোরাণ পাঠ করছিলেন পুত্রের মৃত্যুসংবাদে তিনি কোরাণ থেকে একটি লাইন উদ্ধৃত করে' বলেন__-“আঁমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছি, তার কাছেই আমরা ফিরে যাই।” ভারপর একাগ্রমনে আবার কোরাঁশ পাঠ করতে থাকেন। জননীর এই ন্ুদৃঢ় মানসিক বল পুত্রের চরিত্রকেও অলঙ্কৃত করেছিল। জননীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হিরাট থেকে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। জননীর কোনও হুঃখের কারণ হ'তে পারে এই আশঙ্কায় তিনি বিবাহ পর্য্যন্ত করেন নি। সেলিমের শিক্ষকরখে যখন তিনি নিযুক্ত হলেন তখন তার বয়স

৬৫ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

৭৮ বতসর। বিগ্যারস্তের দিন মুসলমান প্রথানুসারে শিক্ষক তার ক্ষুন্্র ছাত্রটিকে প্রজাদের জয়ধ্বনির মধ্যে নিজের কীধে তুলে নিলেন। উৎসবে তাদের দিকে নানারকম মূল্যবান রত্ব ফুল ছুড়ে দেওয়া হ'ল। অবশেষে ঈশ্বর কোরাণের নাম উচ্চারণ ক'রে শাহজাদাকে অক্ষর পরিচয় করানে! হল। এইভাবে সেলিমের শিক্ষা সুরু হ'ল বটে কিন্তু তার পরম ছুর্ভাগ্য বশতঃ পরের বতসর মৌলানা সাহেব মারা যান

এর পরে আকবর আবদর রহিম খা নামে একজন জ্ঞানী পণ্ডিতকে পুত্রের শিক্ষার জন্য নিযুক্ত করেন। ইনি বৈরাম খার পুত্র। পিতার মৃত্যুর পর আগ্রার সিংহাসনের আশ্রয়ে থেকে তিনি শিক্ষালাভ করেন তিনি ভারতবর্ষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভাষাতন্ববিদ হিসাবে “পরিচিত ছিলেন। পার্সী, আরবী, তুকী, সংস্কৃত এবং হিন্দীতে তার অসাধারণ দখল ছিল। কবি হিসাবে তীর যথেষ্ট সুনাম ছিল বাবরের আত্মজীবনী তিনি পাঁসী ভাষার অন্থুবাদ করেন। আবদর রহিম কেবলমাত্র জ্ঞানাজ্জন নিয়েই জীবন অতিবাহিত করেন ন্বি। রাজনৈতিক ব্যাপারে তীর যথেষ্ট ক্ষমতা ছিল। সাম্রাজ্যের অনেক ব্যাপারেই তিনি আপনার গৌরবকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন

আকবর সেলিমের শিক্ষার ভার আবদর রহিমের মত সর্বব- গুণসম্পন্ন একজন লোকের পরে অর্পণ করে নিশ্চিন্ত হলেন। ১৫৮২ খুঃ সেলিম সর্ব্বপ্রথমে এই শিক্ষকের ব্যক্তিগত সংশ্রবে আমেন। শাহজাদা পার্সী হিন্দী ভাষায় বিশেষ পার্দশিতা

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ১১

লাভ"করেন। সেলিম হিন্ৰী সঙ্গীতপ্রিয় ছিলেন। শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় কাব্যসাহিত্যে তার বিশেষ অনুরাগ জন্মে। পরবর্তীকালে সেলিম কবিতা রচনায় বিশেষ নৈপুণ্য অর্জন করেন। গল্প কাহিনী শুনতে তিনি ভালবাসতেন, স্বিজেও সুন্দর বর্ণনা দিয়ে গল্প বলতে পারতেন।

তার আত্মজীবনী “তুজুক-_ই-_জাহাঙ্গীরিতে তিনি তাঁর নিজের বিষয়ে বলেছেন “আমার নিজের বিশেষ কাব্য-প্রতিভা ছিল। সময়ে সময়ে ইচ্ছা করে, আবার কখনও বা অনিচ্ছা- সত্বেও আমি কবিতা রচনা করতাম ।” কবিদের তিনি বিশেষ সমাদর করতেন মাঝে মাঝে উৎসব সভা আহ্বান করে প্রত্যেক অতিথিকে দিয়ে তিনি কবিতা লেখাতেন।

কিন্তু কেবলমাত্র সাহিত্য বা কাব্য নিয়ে সেলিম সময় কাটাননি। পরবত্তী কালে তার আত্মজীবনীতে আমরা দেখতে পাই যে তিনি ইতিহাস ভূগোলে বিশেষ পারদখিতা লাভ করেছিলেন। বিস্তৃতভাবে প্রত্যেকটি খুটিনাটি বিষয় তিনি তার জীবনীতে স্িখেছিলেন। উদ্ভিদ প্রাণীতত্বেও তার অসীম আগ্রহ ছিল। নানাবিষয়ে আলোচনা! করতে তিনি ভাল বাসতেন। |

এই সমরে শিল্প সংস্কৃতিতে মুঘল রাজবংশ শ্রেষ্ঠত্ব অজ্জন করেছিল। সেলিম রাজবংশের এই সৌন্দর্যযপ্রিয়তাকে অন্তরের মধ্যে গভীরভাবে গ্রহণ করেছিলেন তাঁর উৎসাহে ভারতীয় চিত্রকল! উৎকর্ষ লাভ করে। মূল্যবান সুন্দর পাথর,

১২ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

কারুকার্য খচিত তরবারি, জমকালো পোষাক তার বিশেষ প্রিয় ছিল। অন্যদিকে প্রকৃতির সঙ্গে ছিল তার গভীর যোগ। তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি ফুল, নদী, পাহাড়, আকাশ প্রসৃতিকে কবির লৌন্দর্যময় ভাষায় বর্ণনা করে' গেছেন। ছোট একটি বনফুল, ছোট একটি আকাবীকা পাহাড়ে নদী, উদার আকাশের নীচে ধূনর পাহাড় দেখে তিনি মুগ্ধ হ'য়ে যেতেন।

বি্যাশিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সেলিম দেহিক ব্যায়াম চর্চাও করতেন। এইভাবে তার নুন্দর স্বাস্থ্য সুগঠিত হয়ে উঠিল আকবরের স্বাস্থ্য ছিল অনমনীয়, লোহায় গড়া রাজপুত কন্যা সেলিম জননীও সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারিণী ছিলেন। সুতরাং তাদের জোষ্টপুত্র স্বভাবতই সবল বলিষ্ঠ ছিলেন। দেহকাস্তি তার সু্ীছিল। বাল্য কৈশোরে তিনি পূর্ণসাস্থ্য উপভোগ করেছিলেন উন্মুক্ত হাওয়ায় ব্যায়াম করতে তিনি খুব ভাল- বাসতেন। কিন্তু তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল শিকার করা। শিকারের উত্তেজনা! তিনি উত্তারাধিকার সুত্রে পিতার নিকট হ'তে পেয়েছিলেন। মাত্র পনেরো বছর বয়স হ'তেই, তিনি শিকারে যাওয়া অভ্যাস করেছিলেন সিংহ শিকারে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। শিকারে বহুবার তিনি বহু বিপদের সন্দুখীন হয়েছেন কিন্তু কখনও ভীত বা পশ্চাদপদ হন নি। যৌবন এবং প্রো বয়সে শিকারে তিনি অসাধারণ দক্ষতা লাভ করেছিলেন।

মুঘল রাজবংশের' রীতি অনুযায়ী বাল্য কাল হ'তেই রাজ- কুমারের! সাধারণ রাঁজকার্য্যের সংশ্রবে আসতেন এতে তাদের

জগ

রী, দি উস,

5 ন5 ৮১ চল

চি রর

| দত সর চা রঃ লেঃ টি মা ঙগ ৬০ চু 2 র্‌ পা ৰা ! নস জি | চে রত / টা রঃ শত 4 টি বৃ রগ এও হা ] পু ছি সি এল তু চা রর টে ঢা ইক ১৪ 1 | ধর বর 5 হা তাখি ০০ ৮২ দিন সি সাত " - টু 8 দি বু তিত ৫৩ ০৯? শা /া বি যু 39 রি চা মস 2 ঘি বাহ তল হি টা তর ডল ৮8) রন পা র্‌ টি টি ৫) 8 ১, 5 ১7 কি পিট & ২৭০১ এল 7858 8 রঃ রি স্‌ তা রর হাউ নিত, হি . ৪৮৮৫ রা 2৩ শ্পশশিক্ 1 -স্তি তত সখ ০৫ নে ঠি হু + ইরা রা তু শ্ নি চি ্ঃ - | চে বা খুনি 1 / | ধু রি চা র্‌ রী 71 বা ? রঃ 1807 ৬৫ ৮. 8 ! নম খা

সমাট জাহাঙ্গীরের সিংহ শিকার

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ১৩

ভবিষ্যৎ জীবনের পক্ষে খুব সুবিধা হত। কাবুল অভিযাঁনে আকবর সেলিমকে কার্যভার দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। এই অভিযানের কাজ তিনি বিশেষ প্রশংসার সঙ্গে করেছিলেন এরপরে সেলিম রাজ্যের সাধারণ বিচার প্রভৃতি কান্ছে নিযুক্ত হন। সব্বোপরি সেলিমের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্তরু ছিলেন তার পিতা কুটরাজনীতিজ্ঞ সম্রাট আকবর।

এশ্বধ্ের মাঝে জন্মগ্রহণ করার একটি বিশেষ কুফল আছে। এষ্বর্য্য মানুষের টরিত্র গঠনে বিদ্ব ঘটায়। পৃথিবীর ইতিহাসে এর উদ্াহরণের অভাব নেই। শাহজাদ! সেলিমও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। বাবর, হুমায়ুন আকবরের প্রতিভা ছুঃখ ছুর্দশার তীব্র কশাঘাতে গ্রজ্জলিত হয়ে উঠেছিল। সেলিমের সে সৌভাগ্য হয়নি। যৌবনের মধ্যভাগ পর্য্যস্তও তিনি কোনও বিদ্ব বা বিপদের সন্বুখীন হননি, যাতে তার স্বাধীন বিচার বুদ্ধি চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রয়োজন হ'তে পারে। সম্রাট সাম্রাজ্যের অতি আদরের কুমার সেলিম অপরিমেয় প্রশ্রয় আদরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছিলেন তীর প্রথম জীবন বিপুল এশ্বধ্য, বিশাল রাজশক্তি সমস্তই তার সামান্যতম কামনা পূরণের জন্য উদগ্রীব ছিল। সিক্রীর মনোহর পুল্পোষ্ঠানে, সজ্জিত রাজপ্রাসাদে বদ্ধিত কুমার জীবনের পথে গোলাপের কোমল পাপড়ি ছড়ানো দেখেছিলেন। জীবনের চরম তুর্য্যোগ দৈন্তের মাঝে যে শক্তি সাহস জেগে ওঠে-যে দুঃখের মধ্যে মনুষ্যত্ব বিকাশ লাভ করে শাহাজাদ! সেলিম সেই

১৪ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

ছুখেময় সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন তাই শিক্ষার'সহত্র ব্যবস্থা সত্বেও তার শিক্ষা ছিল অসম্পূর্ণ। চরিত্রের এই দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল তাঁর অতিরিক্ত সুরাপানের দোষ॥ তৈমুরের বংশধরেরা সকলেই সুরা পান করতেন। সেলিম সপ্তদ্শ বসর বয়স পর্য্যন্ত সুরা পান করেন নি। শিকারের ক্লান্তি অপনোদনের জন্য তিনি প্রথম সুরাপান করেন। ক্রমশঃ সেই অভ্যাস অতিরিক্ত ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে তার সমস্ত জীবনকে ব্যর্থ করে তোলে এই পানদোষ থেকে যদি তিনি আপন চরিত্রকে মুক্ত করতে পারতেন, নিঃসন্দেহে তাহলে মুঘল ইতিহাসের অনেকখানিই পরিবপ্তিত হয়ে যেত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পঞ্চদশ বৎসর বয়সেই সেলিম অন্বরের রাজ। ভগবান দাসের কন্যা মানবাইএর সঙ্গে বাগদত্ত হলেন। সআাট আকবর স্বয়ং এই বিবাহ উপলক্ষ্যে সন্তরান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে রাজ৷ ভগবান দাসের রাজপ্রাসাদে যান।

১৫৮৫ খুঃ ১৩ই ফেব্রুয়ারী মুসলমান কাজির দ্বারা এই বিবাহ সম্পন্ন হয়, তবে এই বিবাহে কয়েকটি হিন্দ,প্রথাও প্রতিপালিত হয়েছিল। এই বিবাহে ভগবান দাস সমআাটকে একশতটি হস্তী, অশ্ব, রত, মূল্যবান প্রস্তর খচিত বহু স্বর্ণপাত্র, স্বর্ণ রৌপ্যের বহু দ্রব্যাদি দান করেন। রাজদরবারের সন্ত্রস্ত ওমরাহগণ বলিষ্ঠ অশ্ব স্বর্ণ জিন উপহার পান। কন্যার সঙ্গে দেওয়া হল দাস দাসী প্রচুর রত্রালঙ্কার। সম্রাট বধূর শিবিকার উপরে স্বর্ণ মণিমুক্তা প্রভৃতি রত্ব বর্ষণ করে আনীর্বাদ করন্মেন সেলিমের বধূকে।

সেলিম এরপরে আরও অনেক বিবাহ করেছিলেন। সর্ববশেষে বিবাহ করেন মেহের উন্নেসা বা ন,রজাহানকে।

১৫৮৭ খুঃ ৬ই আগষ্ট সেলিমের জ্যেষটপুত্র খসরু জন্মগ্রহণ করেন। ১৫৯২ খুঃ ৫ই জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন তার দ্বিতীয় পুত্র খুরম। খুরম শব্দের অর্থ আনন্দময়। ভবিষ্যতে ইনি দীর্ঘকাল স্থায়ী আনন্দময় রাজত্ব উপভোগ করেছিলেন

১৬ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

এরপরে জাহাজীরের আরও তিনটি পুত্র জন্মগ্রহণ করেন-_ তাদের নাম জাহান্দর, শাহরীয়ার পারভেজ

আকবর রাজনীতি ব্যাপারে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর স্বাভাবিক দুরদশিতা কুটনীতি তাকে সাআাজ্যের ভবিষ্যৎ বিপদ সম্বন্ধে সচেতন করে" তুলেছিল। পুত্রের প্রতি তার অসীম স্নেহ মমতা ছিল। পুত্র যাতে কোনও প্রকার ড়যন্ত্রে লিপ্ত না হয় সেজন্য সাআজ্যের সকলকেই এবং পুত্রকেও তিনি বুঝতে দিয়েছিলেন যে রাজ্যের একমাত্র উত্তরাধিকারী সেলিমই |

কিন্তু সাআাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া, পারস্পরিক লোভ কুমারকে অবিচলিত থাকতে দিল না। পিতাপুত্রের সন্গেহ সম্পর্ক, অনাবিল আনন্দ ধীরে ধীরে কলুষিত হয়ে উঠল। ১৫৯১ খুষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে সেলিম রাজকীয় ক্ষমতাকে হস্তগত করবার জন্য অশোভন ব্যগ্রতা প্রকাশ করতে আরম্ত করলেন- সেলিমের এই ছূর্যবহার আকবরের মনে গভীর বিতৃষ্ণ সন্দেহের সৃষ্টি করল। সেলিমের পরে আকবরের অসস্তোষের আরও একটি কারণ ক্রমশঃহ বড় হয়ে দেখা দিচ্ছিল। সেলিম তার পিতৃবন্ধু জ্ঞানীশ্রেষ্ঠ আবুল ফজলের সঙ্গে অত্যন্ত ছুব্যবহার করতেন।

১৫৫১ খুঃ ১৪ই জানুয়ারী আবুল ফজল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সন্ত্াস্ত মুবারকের পুত্র ছিলেন। বাল্যকাল হ'তেই আবুল ফজল অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রতিভাসম্পন্ন ছিলেন। মাত্র পনেরো রতসর বয়সেই তিনি দর্শন বিগ্তায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ১৭

তারঞ্অপূর্ধ্ব স্মরণশক্তি, সুন্দর প্রকাশ ভঙ্গী, ভাষার দখল তাকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি বলে পরিগণিত করেছে। তার লেখা 'আইন-ই-আকবরী' “আকবর-নামা; আকবরের সাজাজ্যের ভৌগলিক সীমা, শাসন পদ্ধতি অর্থনীতি সম্বন্ধে ছু'খানি প্রামাণ্য বই আকবরের রাজত্বকালের পরে এই বই 'দ্বখানি যথেষ্ট আলোকপাত করে। পিতার নিকট হতে তিনি সত্যপ্রিয়তা, চিন্তার স্বাধীনতা এবং ধর্মপ্রবণতা পেয়েছিলেন ক্রমে তার পাগ্ডিত্য প্রতিভার কথা সম্রাট আকবরের কর্ণ গোচর হয়। তিনি আবুল ফজলকে রাজদরবারে আহ্বান জানান। তেইশ বসর বয়সে আবুল ফজল সম্রাট আকবরের সভায় আসেন ক্রমে আকবরের বিশেষ প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন কিন্ত সেলিম তার এই পিতৃবন্ধুকে অত্যন্ত অবিশ্বাসের চোখে দেখতেন সম্মানী প্রিয়বন্ধুর এই অসম্মানে আকবর মনে গভীর হুঃখ পেতেন। সেলিমের ছুব্ঠবহারে বিরক্ত অপমানিত হয়ে আবুল ফজল সেলিমের উদ্ধত অসংযত চরিত্র সন্বন্ধে আকবরের কাছে অনুযোগ জান্নাতেন। আকবর ক্রমশ£ই পুত্রের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন। আবুল ফজলের বন্ধুত্বে আকবর অত্যন্ত আনন্দ সাস্বন৷ লাভ করেছিলেন। তার সঙ্গে আকবরের একটি গভীর মানসিক যোগ ছিল। প্রকৃতপক্ষে আবুল ফজল আকবরের উপদেষ্টা ছিলেন তারই সঙ্গে পরামর্শ করে আকবর সাম্রাজ্য শাসন করতেন। সেলিম আবুল ফন্জল্গের এই কর্তৃত্বে অভ্যস্ত অগ্রসন্ন ছিলেন। তীর দুঢ় বিশ্বাস ছিল যে আবুল

১৮ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

কফজলের জন্যই তিনি সাম্রাজ্য পরিচালন। ব্যাপারে তার প্রন্কৃত স্থান অর্জন করতে পারছেন না। পিতার অসীম বিশ্বাস অনুগ্রহ থেকে আবুল কজলকে বঞ্চিত করতে না পারায় ক্রমেই তার বিরুদ্ধে সেলিমের বিতৃষ্ণ ঘৃণা সঞ্চিত হতে লাগল আবুল ফজলও সেলিমের চরিত্রের সমস্ত দোষ ক্রটাই আকবরের কাছে প্রকাশ করে বলতেন ক্রমশঃ আকবর সেলিমের চরিত্র সম্বন্ধে অত্যন্ত সন্দিগ্ধ হয়ে উঠলেন পুত্র বন্ধুর এই বিবাদ মনোমালিন্য তার অন্তরের সমস্ত শান্তি নষ্ট হয়ে গেল।

সেলিমের কনিষ্ঠ ভ্রাতা শাহজাদা মুরাদ এই সময়ে একুশ বতসর বয়সে পদার্পণ করেন। শাহজাদা মুরাদ সুশিক্ষিত উচ্চাভিলাষী এবং বুদ্ধিমান ছিলেন। কিন্তু যৌবনের প্রারস্তেই অতিরিক্ত স্ুরাপানে অন্যান্য কু অভ্যাসে ভগ্রন্বাস্থ্য হয়ে পড়েন। সেলিমের সৌভাগ্য ছিল যে তার সিংহাসনের অপর প্রতিবন্ধী এই রকম অপদার্থ বিলাসী যুবক ছিলেন। অতিরিক্ত সুরাপানের জন্য মুরাদ মারা যান ১৫৯৯ খৃষ্টাকে। আকবরের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র দানিয়েলও মুরাদের চেয়ে, কোন অংশে উন্নত ছিলেন না

এই সময়ে দাক্ষিণাত্যে বিদ্রোহ দমনের জন্য আকবর স্বয়ং দাক্ষিণাত্য অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেলিমকে মেবারের রাঁণার সঙ্গে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হবার আদেশ দেন। সেলিম আজমীরে উপস্থিত হ'য়ে সৈন্যদের রাজপুতনার যুদ্ধে প্রেরণ করেন কিন্তু নিজে শিকার প্রভৃতি আমোদ উৎসবে সময় অতিবাহিত

(সি. -& | চে

অশ্বপৃষ্ঠে যুবরাজ সেলিম

পি মদ -৮ স্‌ চপ টি নন রঙ পচে রি রঙ রঃ চে ্প লি শর 4 5

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ১৯

করতে থাকেন আকবরের চরিত্রের প্রভাব হতে দূরে থাকায় সেলিম সহজেই স্বাথলোভীদের ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র হয়ে ধাড়ালেন সহচরেরা তাকে সম্রাট তার সৈন্যদের সুদুর দাক্ষিণাত্যে অবস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ দিতে থাকেন ক্ষমতাভিলাধী উদ্ধত সেলিম পিতৃন্েহের মর্ধ্যাদা সম্পূর্ণ রূপে বিস্থৃত হয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে যোগ দিলেন মানসিংহ খুব সম্ভবত; এই বিদ্রোহের আভাস পেয়েছিলেন এবং শাহজাদাকে এই ব্যর্থ ষড়যন্ক থেকে প্রতিনিবৃন্ত করার প্রয়াস করেছিলেন। কিন্ত এই সময়ে বাংলা দেশে আফগান সেনানায়কদের নেতৃত্বে বিদ্রোহের সূচনা দেখ! দেওয়ায় মানসিংহ তার রাজপুত সৈন্যসহ বাংল! দেশে যাত্রা! করতে বাধ্য হন। সেলিম আপনার অভীষ্ট সিদ্ধির সহায়তা হবে ভেবে অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে মানসিংহকে বিদায় দিলেন। মানসিংহ শেষ চেষ্টা হিসাবে সেলিমকে তার সঙ্গে বাংলাদেশে আফ্লুগান বিদ্রোহ দমনের জন্য যাত্রা করার অনুরোধ জানান ; কিন্ত সেলিম সে অনুরোধে কর্ণপাত করলেন না। মানসিংহের * বাংলা দেশে যাত্রা করার সঙ্গেই সেলিম সসৈন্যে পাঞ্জাব ছুর্গ অধিকারের উদ্যোগ করতে লাগলেন পাঞ্জাব ছুর্গের ভারপ্রাপ্ত শাসনকর্তা কুলিক খা সেলিমকে যথেষ্ট সম্মান সমাদরের সঙ্গে অভ্যর্থনা করলেও সম্রাটের আদেশ ভিন্ন তাকে ছুর্গে প্রবেশ করতে দিতে অন্বীকৃত হন। সেলিমের বন্ধুবর্গ কুলিক খাঁকে বন্দী করে পাঞ্জাব ছুর্গ অধিকারে জন্য সেলিমকে পরামর্শ দেন কিন্তু সেলিম সহসা এই কাজ করা

২০ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

সমীচীন মনে করলেন না। তিনি পাঞ্জাবের ভার কুলিক খার পরেই ন্যস্ত রেখে পূর্বদিকে অগ্রসর হলেন। এই সময়ে সেলিম সংবাদ পান যে তার পিতামহী মরিয়ম মকানি তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আসছেন মরিয়ম তার এই পৌত্রকে বিশেষ স্েহ করতেন সেলিম আবাল্য তার কাছেই প্রতিপালিত হয়েছিলেন। সেলিমের বিদ্রোহাচরণে রাজ অস্তঃপুরের প্রত্যেকেই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং মরিয়ম পৌব্রকে এই অন্যায় কার্য্য থেকে প্রতিনিবৃত্ত করার জন্য সেলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। কিন্ত সেলিম পিতামহীর সঙ্গে এই সময়ে সাক্ষাৎ করা যুক্তিসঙ্গত মনে করলেন না। কারণ তিনি জানতেন যে পিতামহীর সন্সেহ অন্থুরোধ অগ্রাহা করা তার পক্ষে বিশেষ দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়াবে বৃদ্ধা স্লেহময়ী পিতামহীর অশ্রজল তিনি সহা করতে পারবেন না। এইজন্য সেলিম পিতামহীর উপস্থিতির পূর্বেই নৌকাযোগে এলাহাবাদে যাত্রা করেন। তার সৈন্যের স্থলপথে তাকে অনুসরণ করে। বারোদিন জলপথে ভ্রমণের পর সেলিম এলাহাবাদে উপস্থিত হন। এবং এলাহাবাদ হুর্গে আশ্রয় নিয়ে তিনি আপন স্বাধীনতা৷ ঘোষণা করেন খান্দেশের আসির দুর্গে অবস্থান কালে আকবর পুত্রের এই [খডেশছজ্দেণের সংবাদ পান। সন্সেহ তিরস্কার মিশ্রিত একপত্রে তিনি পুত্রের এই কার্য্যের কৈফিয় চেয়ে পাঠান সেই সঙ্গে সেলিমের বাল্যবন্ধু খাজ' মহম্মদ সেরিফকে শাস্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সেলিমের কাছে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু পিতার

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ২১

আদেশ, বন্ধুর অনুরোধ বই সেলিমের উদ্ধত মনের কাছে হার মেনে গেল। উপরস্ত সেলিম এই সময় থেকে তার সৈন্যসংখ্যা বাড়াতে থাকেন।

১৬০১ খুঃ আকবর আগ্রায় প্রত্যাবর্তন করেন। »সেলিম এই সময়ে প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্য নিয়ে পথে লুষ্ঠন করতে করতে আগ্রার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। শাহজাদা ঘোষণা করলেন যে তার এই যাত্রার উদ্দেশ্য হ'ল আগ্মায় পিতার নিকটে উপস্থিত হয়ে তাকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা। আকবর সেলিমের এই ব্যবহারে অত্যন্ত বিরক্ত হুন। পুত্রকে তিনি তত্ক্ষণা আদেশ প্রেরণ করলেন সমস্ত সৈন্যদল ছত্রভঙ্গ করে সামান্য কয়েকজন অন্ুচর সহ আগ্রায় উপস্থিত হবার জন্য। সৈন্য ছত্রভঙ্গ করতে সেলিম সম্মত হলেন না, তখন আকবর বলে পাঠালেন যে অবিলম্বে সৈন্যসহ সেলিমকে এলাহাবাদে প্রত্যাবর্তন করতে নইলে এর জন্যে ভবিষ্যতে তাকে অনুতাপ করতে কুর্বে। এই ভীতি প্রদর্শনে সেলিম বিচলিত হয়ে উঠলেন এব তথ্ক্ষণাৎ সসৈন্যে এলাহাবাদে প্রত্যাবর্তন করলেন। যাত্রার পূর্বে পিতার নিকট এক পত্রে তিনি আপনার বিশ্বস্ততার কথ! লিখে জানিয়ে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে চাইলেন আকবর সাময়িক ভাবে তার কৈফিয়তে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে উড়্িস্যা বিহারের শাসন ভার অর্পণ করলেন

এলাহাবাদে অবস্থানের সময়ে সেলিম আবার পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টায় যোগদান করেন। তিনি এই সময়ে

২২ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

“রাজা? উপাধি গ্রহণ করেন, এবং এলাহাবাদে স্বতন্ত্র রাজদরবার স্থাপন করে নিজের নামাঙ্কিত “ফারমান' অর্থ আদেশপত্র দিতে থাকেন।

এই বিপদের সময়ে আকবর আবুল ফজলকে নিজের কাছে ডেকে পাঠালেন। আবুল ফজল এই সময়ে দাক্ষিণাত্যের শীসন কাধ্যে নিযুক্ত ছিলেন। সেলিম এই সংবাদে বিচলিত হয়ে উঠলেন। তিনি বুঝতে পারলেন ষে আ্বাকবরের কাছে আবুল ফজলের উপস্থিতির অর্থ সেলিমের বিরুদ্ধে আকবরের মনে আরও বেশী ক্রোধের সঞ্চার। এই ক্রোধের ফলে আকবর হয়তো বা সেলিমকে সিংহাসন থেকে বঞ্চিতও করতে পারেন সেলিম সঙ্কল্প করলেন যে আবুল ফজলকে আকবরের কাছে উপস্থিত হবার সুযোগ তিনি দেবেন না। তিনি আবুল ফজলকে হত্যা করার সঙ্কল্প করলেন এবং এই নৃশংস কার্ধ্যের ভার তিনি ছূর্দীস্ত বুন্দেল। সর্দার বীরসিংহকে দিলেন !

প্রায় এক শতাব্দী আগে রাজপুতদের একটা শাখা যমুনার দক্ষিণে বুন্দেলখণ্ডে এসে বসবাস করছিল 'এরা দোহক শক্তি কষ্টসহিষুতা নিষ্ঠুরতায় তাদের চারিপাঁশে একটা ত্রাসের স্থষ্টি করেছিল। ঘন গভীর বনানী, ছুরস্ত পাহাড়ী নদী, এবং হু্গম পাহাড় তাদের মোগল রা'জশক্তির হাত থেকে রক্ষা করত বীরসিংহ এই ছুদ্ধর্ধ জাতির সার্দার। তিনি সেলিমের অনুগ্রহ লাভের আশায় এই কাজে সম্মত হলেন এবং আবুল ফজলের হত্যার আয়োজন করতে লাগলেন

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ২৩

যথাসময়ে এই সাংঘাতিক বড়যন্ত্রের কথা আবুল ফজলও শুনতে পেলেন। তার হিতৈথী বন্ধুরা তাকে অন্তপথে আগ্রায় যাবার জন্য অন্থরোধ করলেন কিন্তু উন্নত দৃঢ় চরিত্রের আঁধকারী আবুল ফজল সামাহ) দশ্থ্যুদের জন্য নিজের কুন্মমপন্থা" পরিবর্তন করতে অস্বীকার করলেন। যথাসময়ে আবুল ফজল আগ্রার উদ্দেশে যাত্রা করলেন। পথিমধ্যে গুগুচর এসে সংবাদ দিল যে বুন্দেল! দন্থ্যুরা কাছেই অপেক্ষা করছে তাকে আক্রমণ করার জন্য আবুল ফজল এই সংবাদদাতাকে তার সংবাদের জন্য যথেষ্ট পুরস্কার দিয়ে বিদায় দিলেন। কিন্ত বন্ধুদের সনির্বন্ধ অনুরোধেও যাত্রাপথ পরিবর্তন করলেন না। শুক্রবার দিন প্রভাতে তিনি সঙ্গীদের সঙ্গে যাত্রা আরম্ভ করার সঙ্গে সঙ্গেই বুন্দেল দস্থ্যুরা তাঁদের আক্রমণ করল। আবুল ফজলের সঙ্গীরা এই আক্রমণকে প্রতিহত করে আবুল ফজলকে জন্য অনুরোধ করলেন। কিন্ত নিভীক উন্নতচেতা/বুল ফজল ঘৃণার সঙ্গে এই প্রস্তাব প্রত্যা- খ্যান করে বুন্দো প্রহরীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। যুদ্ধ ক্রমশঃই ভীষণতর রূপ ধারণ করল। দলে দলে বুন্দেলা রাজপুত এসে আবুল ফজলের মুষ্টিমেয় সৈন্যদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলল। অবশেষে আবুল ফজলের উদ্ধারের আশা না দেখে তাঁর একজন প্রিয় অন্ুচর জোর করে আবুল ফজলের অশ্থের রশ্মি ফিরিয়ে তাকে নিয়ে পলায়নের উদ্ঠোগ করল। কিন্তু এই পলায়নের সময়ে জনৈক বুন্দেলা দস্যু তার তীক্ষ

২৪ ছেলেদের জাহাঙ্গীর বর্শীর দ্বারা আবুল ফজলের পৃষ্ঠদেশে আঘাত করে। আবুল ফজল তীর ধোড়া নিয়ে ছোট একটি পার্বত্য নদী পার হবার চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থকাম হন। তাঁর আহত দেহ অচৈতন্য হয়ে ৪ঘাড়ার উপর থেকে পড়ে যায়। আবুল ফজলের প্রিয় ভৃত্য জব্বর খাস তার প্রভুর দেহকে বহন করে একটি গাছের ছায়ার নীচে নিয়ে গিয়ে তার চৈতন্য সম্পাদনের চেষ্টা করে। আবুল ফজলের জ্ঞান ফিরে আসে কিন্ত এই সময়ে বুন্দেলা সদ্ণর বীরসিংহ সেখানে উপস্থিত হন এবং তার ইঙ্গিতে ভৃত্য উঁববর খাস কে নিহত করে আবুল ফজলকে হত্যা করা হয় এবং তার ছিন্নশির নিয়ে বুন্দেলা সৈন্য বিপুল জয়োল্লাসে ফিরে যায়। এইভাবে ফজলের জীবনের অবসান ঘটে

আবুল ফজলের ছিন্ন শির এলাহাবাদে সেলিমের কাছে প্রেরণ করা হল। সেলিম তার পরম শক্রর মৃত্যুতে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং ভব্ষ্যিতের জন্য নিশ্ি্ত হয়েছিলেন। তার “আত্মজীবনী'তে তিঙ্গিংলিখেছেন “যদিও আবুল ফজলের হত্যা সাময়িক ভাবে পিতার মনে ক্রোধের সঞ্চার করেছিল তবুও এর ফলেই আমি শেষ পর্য্যন্ত আমার পিতার সঙ্গে মিলিত হতে পেরেছিলাম এবং পিতার ন্বেহকে আবার ফিরে পেয়েছিলাম 1৮

আবুল ফ্জলের হত্যার সংবাদে সমস্ত আগ্রা সহর বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে গেল। সম্রাটের কাছে সংবাদ কিভাবে জানানো যায় কেউ ভেবে পেলেন না অবশেষে আবুল ফজলের

ছেলেদের জাহাঙ্গার ২৫

প্রীতিনিধি চাঘতাই বংশের রীতি অনুযায়ী আপন হস্তে কৃষ্ণবর্ণের রুমাল বেঁধে সম্রাটের কাছে উপস্থিত হলেন এবং এইভাবে আবুল ফজলের মৃত্যুর কাহিনী সআাটকে জানালেন আকবর এই আঘাতে অভিভূত হয়ে পড়লেন। প্রিয় বন্ধুরস্ঞ শোচনীয় মৃত্যুতে তার সমস্ত মন গ্লানি অন্ুশোচনায় ভরে উঠল। এই সময় তিনি বলেছিলেন যে সিংহাসন অভিলাষী পুত্র তার বন্ধুকে হত্যা না করে যদি তাকে হত্যা করত তবে তিনি এর চেয়ে অনেক কম বেদনা অনুভব করতেন।

বুন্দেলা সর্দার বীরসিংহের বিরুদ্ধে আকবর দলে দলে মুঘল সৈন্য প্রেরণ করলেন আবুল ফজলের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য বুন্দেলাবাহিনী মুঘল সৈন্যের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ কৌশল অবলম্বন করে। তারা ক্রমাগত পর্বত হতে পর্বতান্তরে পলায়ন করে মুঘল সৈন্যদের বিপর্য্যস্ত করে তুলল। বীরসিংহ স্মংঘাতিকভাবে আহত হওয়া সত্বেও বিশ্বাসী সা নস লন কিন্ত আকবর তাতে নিরস্ত হলেন না& বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ স্পৃহায় মৃত্যুকাল পধ্যস্ত তিনি বুন্দেলাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন

কিন্তু এই ভীষণ হত্যাকার্যের প্রকৃত অপরাধী সেলিম পিতৃনেহ, অস্তঃপুরের প্রভাব এবং রাজ্যের ভবিষ্ুত কল্যাণের জন্য রক্ষা পেয়ে গেলেন। আকবরের সন্তানদের মধ্যে সিংহাসনের উপযুক্ত উত্তরাধিকারী আর কেহই ছিলেন না' সেলিমের পুত্রেরা তখনও অত্যন্ত শিশু। তাদের কাহাকেও সিংহাসনে

২৬ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

স্থাপনের অর্থ ছিল প্রবল গৃহযুদ্ধের স্চনা। ছাড়া সেলিম ছিলেন অযস্তপুরের বেগমদের অত্যন্ত আদরের সন্তান সেলিমকে কোনও প্রকার শাস্তি দেওয়ার কথা তারা চিন্তা করত৪ পারতেন না! স্রতরাং সেলিম আকবরের ক্রোধাগ্নি থেকে রক্ষা পেলেন। কিন্তু পিতাপুত্রের মধ্যে কি ভাবে মিলন ঘটানো সম্ভবপর হ'তে পারে তার উপায় কেউ ভেবে পেলেন না অবশেষে সেলিম জননী সুলতানা সেলিমা বেগম এক উপায় স্থির করেন। সেলিম! বেগম অত্যন্ত বুদ্ধিমতী বিদুষী রমণী ছিলেন। তার সুন্দর মহত হৃদয়ের জচ্য তিনি প্রজাদের ছারা খাদিজা আখ্যায় ভূষিতা হয়েছিলেন পুত্রের ছুব্যবহারে ব্যঘিতা হয়ে তিনি স্বয়ং এলাহাবাদে পুত্রের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেলিমের চরিত্র উদ্ধত ক্ষমতাভিলাষী হলেও জননীকে তিনি গভীর শ্রদ্ধা করতেন। জননীর উপস্থিতির সংবাদে সেলিম তাকে স্বয়ং এসে অভ্যর্থনাঞকরে এলাহাবাদ ছূর্গে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘকাল ধরে সৌ'ীমা বেগম পুত্রকে স্েহ তিরস্কার মিশ্রিত উপদেশ দিয়ে তাঁর অন্যায় কার্ধ্যের গুরুত্ব বুঝিয়ে দ্রিলেন। ক্রমশঃ মায়ের উপদে শে সেলিম তার অপরাধ বুঝতে পারেন এবং কর্তব্য বিশ্বাসের পথে ফিরবার জন্য শপথ করেন সেলিম! বেগম তখন পুত্রকে সম্রাটের কাছে ক্ষম! প্রার্থনা! করবার জন্য উপদেশ দেন। সেলিম তীর কথায় স্বীকৃত হন, এবং এলাহাবাদ ত্যাগ করে আগ্রায় যাত্রা করার উদ্ভোগ করেন সেলিমের বন্ধুর! তাকে এই কার্ধ্য থেকে নিবৃত্ত

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ২৭

করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেন কিন্তু মহিয়সী জননীর উপদেশে সেলিম তাদের কথা অগ্রাহ্া করে জননীর সঙ্গে আগ্রা যাত্রা করেন। আগ্রার অন্তঃপুরে ন্নেহময়ী পিতামহীর সঙ্গে ছুরম্ত পৌন্রের সাক্ষাৎ অত্যন্ত মর্দম্পর্শী হয়েছিল এর পরে ফির্ঘ মকানি সম্রাটের সঙ্গে সেলিমের মিলন ঘটাবার জন্য আকবরকে তার মহলে আহ্বান করেন। আকবর জননীর অস্তঃপুরে প্রবেশ করার পরে বৃদ্ধা মরিয়ম মকানি তাঁর পৌত্রকে নিয়ে আসেন। অনুতপ্ত পুত্র পিতার চরণে পড়ে তার ক্ষমাভিক্ষা করেন। পুত্রন্নেহকাতর আকবর পুত্রকে মার্জনা না করে পারলেন না। তিনি পুত্রকে আপন বক্ষে টেনে নিলেন। পিতাপুত্রের দীর্ঘদিনের বিরোধ অশ্রুজলে অবসান হল।

তুতীয় পরিচ্ছদ

পিতাপুত্রের বিরোধের অবসানে আকবর সেলিমকে পুনরায় মেবার অভিযানের উদ্ঠোগের অদেশ দিলেন। সেলিম ফতেপুর সিক্রী পধ্যন্ত অগ্রসর হলেন বটে কিন্তু মেবার অভিযানের জন্য বিশেষ কোন আগ্রহ প্রকাশ করলেন না। সেনানায়কের পক্ষে যে সব গুণ আবশ্যক তার কোনটিই সেলিমের বিশেষ ছিল না। দুদর্ঘ রাজপুত জাতি পার্বত্য ভীলদের সঙ্গে যুদ্ধ করার কৌশল তিনি জানতেন না। মেবার অভিযানের ব্যর্থতা! সম্বন্ধে তিনি নিশ্চিত ছিলেন সুতরাং জনসাধারণের চোখে এই ভাবে নিজেকে হেয় প্রতিপন্ন করতে তিনি চাইলেন না। দীর্ঘদিন কর্মক্ষেত্র থেকে নিজেকে দূরে ধবরাখাই স্থির করলেন। সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর প্রশ্ন মীমাংসিতি না হওয়া পর্য্য্ত তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন। এবং ফণ্ঠতপুর সিক্রী থেকে মেবার অভিযানের আয়োজনের অপ্রতুলতা৷ সম্বন্ধে সমাটের কাছে ক্রমাগতই অভিযোগ পাঠাতে লাগলেন। অর্থ, সৈন্য, রসদ প্রভৃতি সরবরাহ সম্বন্ধে অসস্তোষ প্রকাশের পর তিনি আকবরের কাছে সংবাদ পাঠালেন যে সম্রাটের অনুমতি পেলে তিনি নিজের জায়গীরে প্রত্যাবর্তন করে অভিযানের জন্য ইচ্ছামত রসদ সৈন্য সংগ্রহ করতে পারেন। আকবর তাকে

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ২৯

এলাহাবাদে প্রত্যাবর্তনের অদেশ দরিলেন। সেলিম ফিরে গেলেন ১৬০৩ খুঃ আবার স্বাধীনভাবে রাজদরবার সেখানে স্থাপিত হল

সম্রাট আকবরের স্বাস্থ্য মন কিছু দিন থেকেই ঞ্র্গে পড়ছিল। সুদীর্ঘ দিবসের অপরিসীম পরিশ্রম, হৃশ্চিস্তা সংগ্রাম তার দৈহিক স্বাস্থ্যের যথেষ্ট অবনতির কারণ হয়েছিল জীবনের প্রারস্তে যাদের সঙ্গে তিনি সাআজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, ধাঁদের সাহচর্য্যে সুদীর্ঘ কাল সাম্রাজ্যকে সুচারু- রূপে শাসন করে এসেছেন, ধাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনায় তিনি কত সুদীর্ঘ রাত্রি জাগরণে অতিবাহিত করেছেন, আজ জীবনের সায়ান্ছে এসে দেখলেন তাদের প্রায় সকলেই জীবনের পরপারে চলে গেছেন-_পুরাতন দিনের আনন্দ গৌরবময় স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেবার মত কেউ নেই। রাজ। বীরবল? তোডরমল, ভগবান দাস, আবুল ফজল, ফৈজী এর ছিলেন্ চিরদিনের কন্ম সহচর তাই এদের অভাব অনুভব করছিলেন প্রতিপদে সবচেয়ে বড় আঘাত তিনি প্রতিনিয়ত অনুভব করছিলেন তার একমাত্র উপযুক্ত পুত্র সেলিমের উদ্ধত ছুব্যবহারে। রাজকুমার মুরাদ অকালে প্রাণত্যাগ করেছেন দাঁনিয়েল দ্রুত মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। পুত্রদের কথা চিন্তা করে তার অমস্ত অন্তর গভীর নৈরাশ্যে পূর্ণ হয়ে উঠত মনের এই ক্রেশ তাঁকে দ্রেত মৃত্যুর দিকে অগ্রসর করে দিল। কিন্তু এদিকে তার জীবনের

৩০ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

অবসানের সস্ভাবনাতেই সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর প্রশ্ন তীব্রি- ভাবে দেখা দিল

সেলিমের সিংহাসন প্রাপ্তি বিষয়ে প্রথম থেকেই কাহারও বেদত৪ সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সেলিমের ব্যবহারে সকলেই তার পরে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন, তার উচ্ছঙ্খল জীবন যাত্রা, বিলাসিতা, পিতৃনেহের প্রতি অমধ্যাদা, আবুল ফজলকে নিহত কর! প্রভৃতি ব্যাপারে সেলিমের চরিত্রের দুর্বলতা নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পেয়েছিল। আকবর যে সাম্াজ্কে গৌরবের চরম শিখরে উন্নীত করেছিলেন তাকে সুন্দর ভাবে শাসন করার জন্য প্রয়োজন ছিল একজন দৃঢ়চিত্ত সুকৌশলী শাসকের ধার শাসনে সাআজ্যের উন্নতির গতি ব্যাহত হবেনা সেলিম রাজ্যের সকলের সেই আশাকে ব্যর্থ করেছিলেন তাই সেলিমের চেয়ে অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিকে সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সকলে আগ্রহ প্রকাশ করতে লাগল এই সময়ে সেলিমের জ্যেষ্টপুত্র খসরুর বয়স ছিল সতেরো বসন খসরু ছিলেন মানসিংহের ভাগিনেয় আকবরের ধাত্রীম্ণাতার পুত্র মিরজা আজিজ কোকার জামাতা মাত্র সতেরো বতসর বয়সেই খসরু ছিলেন সকলের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র। দেহকান্তি তীর সুন্দর ছিল, চরিত্র ছিল অগ্লান, স্বভাঁব ছিল সহজ সরল। শিক্ষ। তার সেই সুন্দর চরিত্রকে সুন্দরতর করে তুলেছিল যুদ্ধবিষ্তায় ছিল তার অসাধারণ নৈপুণ্য চরিত্রের দিক দিয়ে তিনি তার পিতা খুল্পতাতদের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলেন। খসরুর চরিত্রে

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ৩১

সম্টবতঃ তাঁর পিতামহের মহত চরিত্রের ছায়া পড়েছিল আগ্রার রাজনৈতিক আবহাওয়ার মাঝে বদ্ধিত হওয়ার ফলে খসরুর মনে সিংহাসনের আশা দেখা! দ্িল। মানসিংহ মিরজা আজিজের সঙ্গে খসরু ষড়যন্ত্রে যোগদান করেন। রজ্রন্র্ব অনেকেই সিংহাসনে খসরুকে স্থাপিত করার পক্ষপাতী ছিলেন। এইভাবে সেলিম তার জ্োষ্ঠ পুত্রের মাঝে এক বিরোধের সত্রপাত ঘটে। পিতাপুত্রের সহজ সুন্দর সম্পর্ক বিস্মৃত হয়ে উভয়ে উভয়ের প্রধানতম শত্র হ'য়ে দাড়ান। সেলিমের বিরুদ্ধে খসরুর এই বিদ্রোহাচরণে খসরু জননী শা বেগম অত্যন্ত মন্মাহত হন। তিনি পুত্রকে দীর্ঘ পত্র লিখে তাকে এই অন্যায় কার্য থেকে প্রতিনিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু খসরু জননীর মে উপদেশে কর্ণপাত করেন না। সাম্রাজ্য সিংহাসনের ন্বপ্নদর্শী বালক বন্ধুদের প্ররোচনায় তীর ত্বপ্নকে সফল করে তুলবার চেষ্টায় তখন? আত্মনিয়োগ করেছেন। দিনে দিনে পিতাপুত্রের বিরোধ চরমে উঠল পুত্রের এই অবাধ্যতা স্নেহময়ী জননীর ৩ণে গভীর দুঃখের স্ষ্টি করল এই গ্লানিকে এড়াবার জন্য তিনি আত্মহত্যা করলেন। এই সময়ে সেলিম শিকারে গিয়েছিলেন বেগমের আত্মহত্যার সংবাদে তিনি দ্রুত প্রাসাদে প্রত্যাগমন করেন কিন্তু তার পূর্ব্বেই শ! বেগমের মৃত্যু ঘটে এই শোচনীয় ঘটনায় সেলিম অত্যন্ত মম্্াহত হন এবং দীর্ঘকাল কোনও প্রকার আনন্দ উত্সবে যোগদান করেন না। আকবর তাকে সাম্বনা দিয়ে এই সময়ে এক

৩২ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

দীর্ঘ সন্সেহ পত্র লেখেন। খসরুবাগে শা বেগমের সমাধি দেওয়া হয়।

১৬০৪ খুঃ দানিয়েলের মৃত্যুতে সেলিমের অবশিষ্ট প্রতি- ইশ্ছউঞ৪ অবসান ঘটল। কিন্তু তথাপি সেলিম তার পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা থেকে প্রতিনিবৃত্ত হলেন না। স্বাধীন স্বেচ্ছাচারীরূপে এলাহাবাদে তিনি বড়যন্ত্র করতে লাগলেন। অবশেষে আকবরের ধৈর্য শেষ সীমায় পৌছল, সকল বাধা অগ্রান্থ করে পুত্রকে আগ্রায় ফিরিয়ে আনতে তিনি মনস্থ করলেন। সেলিমকে এলাহাবাদ থেকে আগ্রায় আনবার জন্য তিনি স্বয়ং সসৈন্যে এলাহাবাদে যাত্রা করলেন। কিন্তু এবারও সেলিমের অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন ছিল। যাত্রীর মধ্য পথে আকবর সংবাদ পেলেন যে রাজমাতা মরিয়ম মকানি মৃত্যুশষ্যায় শায়িত আকবর এই সংবাদে দ্রুত আগ্ায় প্রত্যাবর্তন করলেন। মরিয়ম মকানির তখন শেষ অবস্থা আকবর ত্গ্রায় পৌছিবার অল্প পরেই তার মৃত্যু হয়। জননীর মৃত্যুতে গভীর ছুঃখ পেলেন। এলাহাবাদের উদ্দেশে যে আয়োজন তিনি করেছিলেন ভগ্নহৃদয়ে সে অভিযান তিনি পরিত্যাগ করেন। মরিয়মের মৃত্যুতে সেলিমও যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ হলেন। পিতামহীর কাছে তিনি যথেষ্ট প্রশ্রয় পেয়েছিলেন এবং পর্য্যন্ত তারই সাহায্যে বহু বিপদ থেকে উদ্ধ।র পেয়েছিলেন মরিয়মের মৃত্যু, রাজধানীতে খসরুকে সিংহাসনে বসাবার জন্য মিরজা আজিজ মানসিংহের ষড়যন্ত্র এইসব ব্যাপারের জন্য

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ৩৩

তিনি আগ্রায় নিজের উপস্থিতির প্রয়োজন অনুভব করলেন। ১৬০৪ খৃঃ শোকাচ্ছন্ন পিতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য সেলিম আগ্রায় এলেন। আকবর রাজদরবারে তাকে বিশেষ সম্মান অনুগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করলেন বষ্টে কিন্তু দরবার ভঙ্গের পর . তাকে তার বিদ্রোহাচরণের জন্য বিশেষভাবে তিরস্কার করেন এবং দশদিনের জন্য তাকে একটী গৃহে আবদ্ধ রেখে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ছারা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করান। এইভাবে উদ্ধত পুত্রকে শাসনের ব্যবস্থা করলেও অস্তঃপুরচারিণীদের মমতা স্নেহের জন্য আকবর সেলিমকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলেন

ক্রমাগত মানসিক বিপর্যয়ে শারীরিক অসুস্থতায় আকবর ক্লাস্ত হ'য়ে পড়েছিলেন। অবিলম্বে উত্তরাধিকারীতেক্স প্রশ্নের মীমাংস। হওয়া প্রয়োজন হ'য়ে পড়ল। সেলিম খসরুর পরস্পরের সম্বন্ধ এই স্রময়ে চরম পর্য্যায়ে এসে দাড়িয়েছিল। আকবর পুত্র পৌঁত্রর এই 1বরোধে ক্ষতবিক্ষত চিত্তে শয্যা রা ক্রমে তার ছুর্বল দেহ জ্বর উদরাময়ে আক্রান্ত হ'ল এবং অবস্থা ক্রমেই সন্কটাপন্ন হয়ে উঠল। এদিকে সআাটের শেষ শয্যাকে ঘিরে তখন ষড়যন্ত্র বিরোধের ঘূর্ণিবাত্যা উঠেছে মিরজা! আজিজ এই সময়ে আকবরের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছিলেন। খসরুকে সিংহাসনে স্থাপনের জন্য তিনি আয়োজন করতে লাগলেন যিরজা আছিজ তার দলস্থ লোকেদের বার! প্রাসাদ পরিপূর্ণ

৩৪ ছেলেদের জাহাঙ্গীর

করে ফেললেন হড়যন্ত্ে স্থির হ'ল যে সেলিম অসুস্থ পিতাকে দেখবার জন্য প্রাসাদে পদার্পণ করলেই তাকে বন্দী কর! হবে। সেলিম এই বড়যন্ত্রের কথা জানতে পারলেন তিনি প্রাসাদে 'ুসা বন্ধ করলেন। এইভাবে ষড়যন্ত্র প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় মিরজা আজিজ মানসিংহ প্রকাশ্যে খসরুকে সিংহাসনে স্থাপনের উদ্যোগ করলেন এই উদ্দেশ্যে দরবারের প্রধানদের এক সম্মেলন আহুত হল। প্রধানের! ছুই দলে বিভক্ত হয়ে গেলেন। একদল খসরুকে সিংহাসনে বসাবার পক্ষপাতী, তারা বল্লেন ছুর্বলচিত্ত, সুরাপায়ী সেলিমকে সিংহাসন দেবার কোনই সার্থকতা নেই। অপর দল কিন্তু প্রস্তাবে সম্মত হ'লেন না। চাঘতাই বংশের রীতি অনুযায়ী রাজবংশের জ্যেষ্ঠ পুত্রকেই সিংহাসনে বসাবার পক্ষে তারা মত প্রকাশ করলেন। মানসিংহ তখন খসরুকে সিংহাসন দেবার জন্য সম্রাটের সম্মতি প্রার্থন৷ করলেন। কিন্তু এইভাবে এক অশ্বৃস্তিময় গৃহযুদ্ধের সুচনা করে পৌত্রকে সিংহাসন দিতে আকবরঘ্ুচাইলেন না সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থতায় পর্যবসিত হ'ল, মানাঁসংহ তখন সুলতান খসরুকে নিয়ে বাংলায় ফিরে যাবার উদ্যোগ করতে লাগলেন

ষড়ঘন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার সংবাদে আশ্বস্ত হ'য়ে সেলিম অবশেষে তাঁর পিতার শেষ শয্যার পাশে এসে উপস্থিত হ'লেন। সম্রাটের অন্তিম মুহূর্ত তখন আসন্ন। সেলিম এসে তার পায়ের নীচে জানু পেতে বসলেন। সম্রাটের চেতনা ফিরল। তার ইঙ্গিতে সম্রাটের উদ্ভীষ সেলিমের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হ'ল।

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ৩৫

সম্রাটের রাজকীয় পরিচ্ছদে তিনি ভূষিত হলেন। মোগল সাআাজ্যের বহু উত্থান পতনের- সুদিন দুর্দিনের--বিজয় গৌরবের সাঙ্গী আকবরের তরবারি বেঁধে দেওয়৷ হ'ল সেলিমের কটিদেশে। এইভাবে তার আদেশ প্রতিপালিত হ'লে আলম ভাবী সআাটকে মাথা! ঈষৎ আন্দোলিত করে অভিবাদন জানালেন। তারপর চিরদিনের মত এই কর্মবীর নিত্রিত হলেন।

পরদিন যথোচিত সমারোহের সঙ্গে আকবরের দেহ আগ্রা থেকে ছয় মাইল দুরবন্তাঁ সিকান্দ্রায় নিয়ে যাওয়া হল। মেলিম নিজের স্বন্ধে সেই শবাধার বহন করেছিলেন আকবর জীবিত কালে তার নিজের জন্য সে সমাধি নির্মাণ কার্য স্বর করে- ছিলেন সেইখানেই তাঁর দেহকে সমাধিস্থ করা হয়। সেলিম প্রচুর অর্থব্যয়ে সেই সমাধি নির্মাণ কাধ্য শেষ করেন। ১৬১৩থুঃ তিন হাজারেরুও বেশী শিল্পী শ্রমিক এর নির্মাণ কার্য সমাপ্ত করেন। |

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

১৬০৪ খুঃ ২৪শে অক্টোবর ছত্রিশ বওসর পূর্ণ হওয়ার পরে সেলিম সিংহাসন আরোহণ করেন। অভিষেকের সময়ে তিনি আপন হস্তে মুকুট মাথায় দিলেন এবং নাম নিলেন নুরুদ্ধিন মহম্মদ জাহাঙ্গীর পাদশা' গাজী। জাহাঙ্গীর অত্যন্ত সুপুরুষ ছিলেন। দীর্ঘাকৃতি, উজ্জ্রল বর্ণ, আয়ত চক্ষু বঙ্কিম ভ্রু ছিল তার, মুখমণ্ডল ছিল সর্ধদা প্রসন্ন। তিনি আনন্দ উৎসব সমারোহ খুব ভাল বাসতেন।

জীবনীশক্তিতে পরিপূর্ণ ছিলেন তিনি। সুখাগ্ঠ জমকালো! পরিচ্ছদ তার বিশেষ প্রিয় ছিল। জাহাঙ্গীরের চরিত্র সম্বন্ধে এঁতিহাসিকের৷ বলেছেন যে বিপরীত দুইটি ভাবের সাহায্যে তার চরিত্র গঠিত হয়েছিল। অতি সামান্য কারণেই তিনি নিষ্ঠুরতার চরম উদাহরণ দেখাতেন। "আবার অপরদিকে স্ববিচার সৎ আদর্শ স্থাপনের জন্য তার আগ্রহের অভাব ছিল না। শীতের রাত্রে রাজহস্তীদের স্নানের সময়ে তাদের ঈষৎ উষ্ণ জলে স্নান করাবার আদেশ দিয়েছিলেন, অথচ আবুল ফজলের মত জ্ঞানীশ্রেষ্ঠ পিতৃবন্ধুকে তিনি নির্বিকার চিত্তে হত্যা করিয়েছিলেন এবং তার আত্মজীবনীতে কোথাও তার জন্য এতটুকু অনুতাপের চিহ্ন পাওয়া যায় না, বরং স্প্টভাষায় তার এই কাজকে তিনি সমর্থনই করে গেছেন

সমাট জাহাঙ্গীর

ছেলেদের জাহাঙ্গীর ৩৭

জাহাঙ্গীরের চরিত্রের সবচেয়ে বড় কথা যে তিনি প্রকৃতিকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। প্রকৃতির শোভা সৌন্দর্য্য, তার ফুল, লতা, পাখী, তার পাহাড়, নদী, ঝরণ! তার চোখে বিন্ময়ের স্মষ্টি করত। জাহাঙ্গীর নিজে উগ্ভান রচন! করতে ভালবাসতেন আগ্রায় তার রচিত উদ্ভান নানা ছুশ্রাপ্য ফল ফুলে সমৃদ্ধ ছিল

ভারতবর্ষের ফুল তাঁর বিশেষ প্রিয় ছিল। পলাশ, বকুল, টাপা, কেতকী তিনি বেশী ভাল বাসতেন আর ফলের মধ্যে ভালবাসতেন আম। তিনি বলতেন “মধ্য এশিয়া অথবা আফগানিস্থানের কোনও ফলের সঙ্গে হিন্দৃস্থানের আমের তুলন। হয় না”। জাহাঙ্গীর তার আত্মজীবনীতে বলেছেন যে আকবর তার রাজত্বকালে ভারতবর্ষের বাইরে থেকে নানারকম ফলের আমদানী করেছিলেন এদেশে তাদের মধ্যে “কিসমিস 'সাহেবি' প্রভৃতি কয়েক রকমের আঙ্গুরও ছিল। জাহাঙ্গীর তরমুজ খুব ভালবাসতেন, সুদূর খোরাসান থেকে তার জন্ তরমুজ আসত

জাহাঙ্গীর তার পোষাক পরিচ্ছদের ব্যাপারে খুব তীক্ষুদৃষ্ট রাখতেন। তিনি নিজের জন্য অনেক রকমের সুন্দর সুন্দর পরিচ্ছদ তৈরী করিয়েছিলেন পোষাকে যথেষ্ট পরিমাণে মণি মুক্তা খচিত না থাকলে সে পোষাক তার পছন্দ হ'তনা। মাথায় তিনি যে উক্কীষ ব্যবহার করতেন তাতে চুনি, হীরা পান্না বসানো থাকত। খুব বড়